কিশোর-কিশোরীদের কতটা ঘুম দরকার, আর কেন তারা দেরিতে ঘুমায়

কিশোর বয়সে শরীরের ঘড়ি স্বাভাবিকভাবেই একটু পিছিয়ে যায়, তাই রাতে ঘুম দেরিতে আসে, অথচ সকালে স্কুল-কোচিং শুরু হয় ভোরেই। ফলে অনেক কিশোর-কিশোরী নিয়মিত কম ঘুমায়, যা পড়ালেখা, মেজাজ আর মনোযোগে প্রভাব ফেলে।

গবেষণা কী বলে

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রকাশিত গবেষণা পর্যালোচনা করে ২০১৬ সালে একটি ঐকমত্য বিবৃতি দেয়: ৬-১২ বছরের শিশুদের প্রতিদিন ৯-১২ ঘণ্টা এবং ১৩-১৮ বছরের কিশোরদের ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার। নিয়মিত এর চেয়ে কম ঘুম মনোযোগ, আচরণ, শেখা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সাথে যুক্ত বলে তারা উল্লেখ করেছে। এটি বিশেষজ্ঞ ঐকমত্য, প্রমাণ মূলত পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা থেকে।

কীভাবে করবেন

  1. পরিবারে মিলে ঠিক করুন রাতে কখন ফোন-ট্যাব চার্জে রেখে বসার ঘরে থাকবে, বাবা-মাও নিয়মটা মানলে সন্তান সহজে মানে।
  2. কোচিং-পড়ার রুটিন এমনভাবে সাজান যাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমের সুযোগ থাকে; রাত জেগে পরীক্ষার পড়া শেখা আসলে মনে রাখার ক্ষমতা কমায়।
  3. ছুটির দিনে দুপুর পর্যন্ত না ঘুমিয়ে সর্বোচ্চ ১-২ ঘণ্টা বেশি ঘুমাতে দিন।
  4. বিকেলের পর এনার্জি ড্রিংক, কোলা, কড়া চা এড়িয়ে চলতে উৎসাহ দিন।
  5. সকালে উঠে বাইরে একটু আলোয় যাওয়া বা স্কুলে হেঁটে যাওয়া শরীরের ঘড়ি এগিয়ে আনতে সাহায্য করে।

সতর্কতা

সতর্কতা: কিশোরের যদি দীর্ঘদিন ঘুম না আসে, দিনে ক্লাসে ঘুমিয়ে পড়ে, জোরে নাক ডাকে, বা মন খারাপ, বিরক্তি ও একা থাকার প্রবণতা বাড়ে, শিশু বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

তথ্যসূত্র (রেফারেন্স)

  1. Paruthi S, Brooks LJ, D Ambrosio C, et al. Recommended Amount of Sleep for Pediatric Populations: A Consensus Statement of the American Academy of Sleep Medicine. Journal of Clinical Sleep Medicine, 2016. DOI

গবেষণার ফল সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না। এগুলো সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসা-পরামর্শ নয়।

NYDRA একটি ওয়েলনেস সেবা; এটি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা করে না। স্বাস্থ্যের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

← হিলিং ল্যাবে ফিরুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top