নাক ডাকা কখন স্লিপ অ্যাপনিয়ার সতর্কসংকেত হতে পারে

আমাদের পরিবারে জোরে নাক ডাকাকে প্রায়ই হাসির বিষয় বা "গভীর ঘুমের লক্ষণ" ভাবা হয়। কিন্তু নাক ডাকার সাথে যদি ঘুমের মধ্যে শ্বাস থেমে যায়, তা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া হতে পারে, যা চিকিৎসা ছাড়া থাকলে দিনের ঘুমভাব, দুর্ঘটনা ও হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকির সাথে যুক্ত।

গবেষণা কী বলে

২০১৯ সালের একটি বৈশ্বিক বিশ্লেষণের হিসাবে, ৩০-৬৯ বছর বয়সী প্রায় ৯৩ কোটি মানুষের কোনো না কোনো মাত্রার স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে, যাদের অনেকেই জানেন না। STOP-Bang নামের একটি সহজ প্রশ্নমালা নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, জোরে নাক ডাকা, দিনে ক্লান্তি, কেউ শ্বাস থামতে দেখেছেন কি না, উচ্চ রক্তচাপ, বেশি ওজন, ৫০-এর বেশি বয়স, মোটা গলা ও পুরুষ হওয়া, এসবের যত বেশি মেলে ঝুঁকি তত বেশি। এটি শুধু স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয় নয়; নিশ্চিত হতে ঘুমের পরীক্ষা লাগে।

কীভাবে করবেন

  1. পরিবারের কাউকে জিজ্ঞেস করুন: ঘুমের মধ্যে আপনার শ্বাস কি থেমে যায়, হাঁসফাঁস করে জেগে ওঠেন কি?
  2. কয়েক রাত ফোনে নিজের ঘুমের শব্দ রেকর্ড করে শুনুন বা চিকিৎসককে শোনান।
  3. চিত হয়ে না শুয়ে কাত হয়ে শোয়ার চেষ্টা করুন; অনেকের নাক ডাকা এতে কমে।
  4. ওজন বেশি হলে ভাত-মিষ্টির পরিমাণ একটু কমিয়ে আর প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন; NYDRA-র নবরত্ন ট্র্যাকারে হাঁটা লিখে রাখুন।
  5. ঘুমের আগে ধূমপান ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।

সতর্কতা

সতর্কতা: ঘুমের মধ্যে শ্বাস থেমে যাওয়া, দিনে গাড়ি চালাতে বা কথা বলতে বলতে ঝিমিয়ে পড়া, সকালে মাথাব্যথা বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান (নাক-কান-গলা, বক্ষব্যাধি বা স্লিপ বিশেষজ্ঞ)। শিশুর নিয়মিত নাক ডাকাও চিকিৎসককে দেখানো উচিত। নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ খাবেন না, এতে অ্যাপনিয়া আরও খারাপ হতে পারে।

তথ্যসূত্র (রেফারেন্স)

  1. Chung F, Abdullah HR, Liao P. STOP-Bang Questionnaire: A Practical Approach to Screen for Obstructive Sleep Apnea. Chest, 2016. PubMed
  2. Benjafield AV, Ayas NT, Eastwood PR, et al. Estimation of the global prevalence and burden of obstructive sleep apnoea: a literature-based analysis. The Lancet Respiratory Medicine, 2019. PubMed

গবেষণার ফল সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না। এগুলো সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসা-পরামর্শ নয়।

NYDRA একটি ওয়েলনেস সেবা; এটি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা করে না। স্বাস্থ্যের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

← হিলিং ল্যাবে ফিরুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top