ত্রিপত্র মিক্স
মেথি · নিম পাতা · তেলাকুচা পাতা
ঘরে বানানো ভেষজ মিক্স পাউডার। যারা রক্তের শর্করা নিয়ে সচেতন, তাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের একটি প্রাকৃতিক সহায়ক।
দাম শীঘ্রই জানানো হবে · ২৫০ গ্রাম
কীভাবে খাবেন
- রাতে: ১ চা-চামচ (প্রায় ৫ গ্রাম) পাউডার এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে নেড়ে পান করুন।
- অথবা সকালে: ১ চা-চামচ এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে সাথে সাথে পান করুন।
- দিনে একবারের বেশি নয়। স্বাদ তেতো, এটাই স্বাভাবিক।
উপাদান আর গবেষণা
মেথিতে প্রচুর দ্রবণীয় আঁশ (গ্যালাক্টোম্যানান) থাকে, যা পেটে খাবার হজমের গতি ধীর করে। ক্লিনিক্যাল গবেষণাগুলোর সমন্বিত বিশ্লেষণে মেথি খাওয়ার পর খালি পেটে রক্তের শর্করা আর HbA1c কিছুটা কম পাওয়া গেছে, তবে গবেষণাগুলোর মান ও মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন।
Neelakantan N, et al. Effect of fenugreek (Trigonella foenum-graecum L.) intake on glycemia: a meta-analysis of clinical trials. Nutrition Journal, 2014. PubMed
বাংলার ঘরোয়া রান্না আর লোকজ চিকিৎসায় বহুদিনের পরিচিত পাতা। নতুন ডায়াবেটিস ধরা পড়া মানুষের উপর একটি ছোট র্যান্ডমাইজড গবেষণায় ৯০ দিন তেলাকুচার নির্যাস খাওয়ার পর রক্তের শর্করা মাঝারি মাত্রায় কমেছে। বড় গবেষণা এখনো দরকার।
Kuriyan R, et al. Effect of supplementation of Coccinia cordifolia extract on newly detected diabetic patients. Diabetes Care, 2008. PubMed
আয়ুর্বেদ আর গ্রামবাংলায় নিম পাতা শত বছর ধরে ব্যবহৃত। শর্করার উপর এর প্রভাব নিয়ে বেশিরভাগ গবেষণা এখনো ল্যাব ও প্রাণীর উপর; মানুষের উপর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কম। তাই আমরা একে সহায়ক উপাদান হিসেবে অল্প পরিমাণে রাখি।
কারা খাবেন না বা আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করবেন
- ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন নিলে: চিনি বেশি কমে যেতে পারে (হাত কাঁপা, ঘাম, মাথা ঘোরা)। শুরুর আগে ডাক্তারকে জানান আর প্রথম দুই সপ্তাহ নিয়মিত সুগার মাপুন।
- গর্ভাবস্থায়, সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, বা সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলে খাবেন না।
- শিশুদের দেবেন না।
- রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে, লিভার বা কিডনির রোগ থাকলে, বা অপারেশনের আগে: ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- চিনাবাদাম বা ছোলায় অ্যালার্জি থাকলে মেথিতেও অ্যালার্জি হতে পারে।
- পেট ফাঁপা বা পাতলা পায়খানা হলে পরিমাণ কমান; সমস্যা থাকলে বন্ধ করুন।
এই তথ্য সাধারণ জ্ঞানের জন্য, চিকিৎসা-পরামর্শ নয়। কোনো রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা বা নিরাময়ের দাবি করা হচ্ছে না।